Friday, 17 September, 2021

চাঁদে ডাইনোসরের দেহাবশেষ?

চাঁদে ডাইনোসরের দেহাবশেষ?

ডাইনোসরের বিলুপ্তির কারণ কমবেশি সবারই জানা। পৃথিবীতে মানবসভ্যতার প্রথম পদক্ষেপ ফেলার আনুমানিক ৬৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে ডাইনোসরেরা। । এর প্রধান প্রধান কারন হিসেবে পৃথিবীর জলবায়ুর পরিবর্তন আর বিশাল বিশাল সব উল্কাপিন্ডের আঘাতকে ধারনা করা হয়ে থাকে।

পত্রপত্রিকাসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছুদিন ধরে ছড়িয়ে পড়া খবর এই যে “চাঁদে পাওয়া গেছে ডাইনোসরের ধ্বংসাবশেষ।” কেউ কেউ আবার এমন অতিরঞ্জিত করে বলছে যেন চাঁদে সত্যিকার অর্থেই মিলে গেছে ডাইনোসরের সন্ধান! তবে অদ্ভুত হলেও খবরটি সঠিক। চাঁদে ডাইনোসরও সন্ধান মিলেছে তবে জীবন্ত না। সন্ধান পাওয়া গেছে ডাইনোসরের দেহাবশেষ বা ফসিলের। এবার প্রশ্ন হলো ডাইনোসর বা ডাইনোসরের ফসিল চাঁদে পৌছলো কি করে? তাহলে কি মানুষের চেয়েও অত্যধিক বুদ্ধিমান কোনো প্রাণী তথা এলিয়েন কী এদের নিয়ে গিয়েছিল সেখানে ? নাকি ওরা আগে থেকেই চাঁদে বসবাস করে আসছিলো ? এরকম অনেক প্রশ্নের উদয় হওয়া স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো, জ্যোতিঃপদার্থবিদ ও নভোচারী’রা এর পেছনের গল্পটার ব্যাখ্যা করেছেন।

ধারনা করা হয় যে, ডাইনোসরদের বিলুপ্তির প্রধান কারণ ছিলো উল্কাপাত। বিশাল বিশাল উল্কাপিন্ডের আঘাতে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিশাল সব গর্তের সৃষ্টি হয়েছিলো। এসব উল্কাপিন্ডের মধ্যেই কোনো এক প্রকাণ্ড উল্কাপিন্ডের আঘাতে ডাইনোসরসহ পৃথিবীর ভূ-খণ্ডের বিভিন্ন অংশ ছিটকে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে তথা মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে কিছু খন্ড হয়ত আবার পৃথিবীতেও ফিরে আসে। যেহেতু মহাশূন্যে পৌঁছাতে হলে মুক্তিবেগের (প্রতি সেকেন্ডে ১১.২ কি.মি. দূরত্ব অতিক্রম) প্রয়োজন । মুক্তিবেগ না হলে সকল বস্তু আবার ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসতে বাধ্য। প্রচন্ড এই বেগের জন্য অনেক শক্তির প্রয়োজন, তার উৎস কী? বিজ্ঞানীরা এর ব্যাখ্যাও করেছেন বটে। তাদের শারনা, কোনো এক প্রকাণ্ড উল্কাপিন্ড পৃথিবীকে দ্রুত গতিতে আঘাতের কারণে মুক্তিবেগ পেয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকে ভেদ করে মহাশুন্যে ছিটকে পড়ে কিছু ভূ-খণ্ড। সেখানে হয়ত ডাইনোসরও থেকে থাকতে পারে। আর তাদের সেই ছিটকে পড়া দেহের ধ্বংসাবশেষ-ই পাওয়া যে পারে চাঁদে।

উল্লেখ্য, আমাদের পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ বিশাল উল্কাপিন্ডের আঘাতের দ্বারা পৃথিবীর ভূ-খণ্ডের ছিটকে পড়া অংশ নিয়ে গঠিত। উল্কাপিণ্ডের আঘাতে মহাশূন্যে ছিটকে পড়া ভূ-খণ্ডের অংশ হয়ত এখনো ছড়িয়ে আছে আমাদের সৌরজগতে। হয়ত মঙ্গলেও আছে আমাদের ভূ-খণ্ডের অংশ। পৃথিবীর চরম পরিবেশে বেঁচে থাকা কোনো অনুজীব হয়ত এখনো বেঁচে আছে ছিটকে পড়া ওই অংশগুলোর ভেতর। এরকমই কোনো উল্কাপিন্ডের দ্বারাই হয়তো আমাদের পৃথিবীতেও প্রাণের সঞ্চার হয়েছিল অথবা অনুজীবের আগমণ হয়েছিল দূর মহাশূন্যের কোনো গ্রহ থেকে। চাঁদে ডাইনোসরের দেহাবশেষ নিয়ে আরো যত বেশি জানা যাবে, ততই পৃথিবীতে প্রানের অস্তিত্ব মহাকাশ থেকে এসেছে কিনা তা স্পষ্ট হবে। যদি মহাকাশ থেকেই প্রান পৃথিবীতে এসে পৌছায় তাহলে অন্য গ্রহেও যে প্রানের অস্তিত্ব আছে তা প্রমানিত হবে।

সুত্র-১: https://www.dailymail.co.uk/sciencetech/article-9164967/Dinosaur-bones-flung-moon-asteroid-smashed-Earth-scientists-claim.html

সুত্র-২ : https://www.iflscience.com/space/we-are-pleased-to-inform-you-there-are-probably-dinosaur-remains-on-the-moon/

Comments

You may like...